প্রাণঘাতী হাম থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
কিভাবে সুস্থ জীবন যাপন করা যায় হাম কেবল একটি সাধারণ চর্মরোগ বা জ্বর নয়,এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এই রোগের প্রতিষেধক টিকা এখন হাতের নাগালে থাকলেও, সচেতনতার অভাবে আজও বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার শিশু এই রোগে প্রাণ হারায়।
বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পুষ্টিহীনতা এবং টিকাদান কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের অভাবে হাম এক বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।
পেজ সূচীপত্র : প্রাণঘাতী হাম থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
হামের কারণ ও সংক্রমণের মাধ্যম
হামের লক্ষণ ও বিভিন্ন পর্যায়
হামের লক্ষণগুলো শরীরে প্রবেশের সাথে সাথেই প্রকাশ পায় না। এটি শরীরে প্রবেশের পর একটি নির্দিষ্ট সময় নিয়ে নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। সংক্রমণের প্রায় ১০ থেকে ১৪ দিন পর প্রথম লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে। এর গতিপ্রকৃতিকে প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে ভাগ করা যায়:
প্রাথমিক বা ইনকিউবেশন পর্যায়: এই পর্যায়ে রোগীর শরীরে ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করলেও বাইরে থেকে কোনো বিশেষ লক্ষণ বোঝা যায় না। তবে এই পর্যায় শেষ হওয়ার সাথে সাথে হঠাৎ তীব্র জ্বর শুরু হয়, যা অনেক সময় ১০৩ -১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সাথে থাকে:
- টানা শুকনো কাশি ও গলা ব্যথা।
- প্রচণ্ড সর্দি বা নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া।
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং আলোতে অস্বস্তি অনুভব করা।
আরো পড়ুন: শিশুর জ্বর হলে করণীয় -শিশুর জ্বর কমানোর কিছু উপায়
কপ্লিক স্পট: এটি হাম শনাক্ত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বৈজ্ঞানিক লক্ষণ। শরীরে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার প্রায় ২-৩ দিন আগে গালের ভেতরের দিকে, বিশেষ করে মাড়ির পেছনের অংশে ছোট ছোট সাদাটে বা নীলচে-সাদা দানার মতো দাগ দেখা যায়। এটি দেখতে অনেকটা লবণের দানার মতো।
র্যাশ বা ফুসকুড়ি পর্যায়: জ্বর শুরু হওয়ার ৩-৫ দিন পর র্যাশ দেখা দিতে শুরু করে। এটি সাধারণত কানের পেছনের অংশ এবং কপালের চুলের রেখা থেকে শুরু হয়। এরপর এটি ধীরে ধীরে মুখমণ্ডল, ঘাড়, বুক, পেট এবং হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় জ্বর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ৫-৬ দিন পর এই র্যাশগুলো হালকা তামাটে বা বাদামী বর্ণ ধারণ করে চামড়া হালকা উঠতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।
হাম থেকে বাঁচার প্রধান উপায়
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখনও হামের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। তাই টিকাদানই হলো এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর বৈজ্ঞানিক উপায়।
MMR ও MR টিকা: বর্তমানে MMR (Measles, Mumps, and Rubella) বা MR (Measles, Rubella) টিকা বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে।
সময়সূচী: বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী, শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়।
সুরক্ষা মাত্রা: মাত্র এক ডোজ টিকা নিলে ৯৩% সুরক্ষা পাওয়া যায়, কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ পূর্ণ করলে সুরক্ষার মাত্রা ৯৭% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
ভ্রান্ত ধারণা থেকে সাবধান: অনেক সময় গুজব রটানো হয় যে টিকার কারণে অটিজম বা স্নায়বিক সমস্যা হয়। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উন্নত বিশ্বের কয়েক দশক ধরে চলা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে টিকা অত্যন্ত নিরাপদ এবং জীবন রক্ষাকারী।
ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ
টিকা দেওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের বিস্তার রোধে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি:
- সাবান-পানির ব্যবহার: বাইরে থেকে ফিরলে, খাবার খাওয়ার আগে বা কোনো কিছু স্পর্শ করার পর অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- আইসোলেশন বা আলাদা রাখা: বাড়িতে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে অন্তত র্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠার ৪-৫ দিন পর্যন্ত একটি আলাদা ও বাতাস চলাচলের সুবিধাযুক্ত ঘরে রাখা উচিত। এতে পরিবারের অন্য সদস্যরা বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিরাপদ থাকবেন।
- মাস্কের ব্যবহার: বাড়ির ভেতরে এবং বাইরে মাস্ক ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ুবাহিত সংক্রমণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
পুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাস
হাম হলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে। এই সময় সঠিক পুষ্টি রোগীর দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে।
- ভিটামিন-এ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হামে আক্রান্ত শিশুদের উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দেওয়া অপরিহার্য। এটি চোখের অন্ধত্ব রোধ করে এবং নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
- প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: টিস্যু মেরামত ও শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এবং ডাল খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
- তরল খাবার ও হাইড্রেশন: জ্বরের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রচুর পানি, ফলের রস, স্যুপ, ডাবের পানি এবং ওআরএস পান করানো উচিত।
- সহজপাচ্য খাবার: অসুস্থ অবস্থায় হজম শক্তি কমে যায়, তাই জাউ ভাত বা খিচুড়ির মতো নরম খাবার দেওয়া ভালো।
আক্রান্ত রোগীর বিশেষ যত্ন ও ঘরোয়া চিকিৎসা
হাম যেহেতু ভাইরাসজনিত, তাই এর কোনো সরাসরি নিরাময়কারী ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা এবং জটিলতা রোধ করা।
জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় প্যারাসিটামল সেবন করাতে হবে। এসপিরিন জাতীয় ওষুধ শিশুদের ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলা উচিত ।
বিশ্রাম ও আলোক সংবেদনশীলতা: হামে চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে । তাই রোগীকে সামান্য অন্ধকার বা মৃদু আলোর ঘরে শান্তিতে বিশ্রাম নিতে দিন।
ত্বকের পরিচর্যা: র্যাশ চুলকানো ঠিক নয়, এতে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হতে পারে। নিম পাতা ভেজানো পানি দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করে দিলে আরাম পাওয়া যায়। তবে কোনো কড়া সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়।
হামের সম্ভাব্য জটিলতাসমূহ
অনেকে হামকে সাধারণ অসুখ মনে করে অবহেলা করেন, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি মারাত্মক সব শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে:
- নিউমোনিয়া: হামের কারণে ফুসফুসের প্রদাহ বা নিউমোনিয়া হতে পারে, যা হামে শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ।
- এনসেফালিটিস: এটি মস্তিষ্কের প্রদাহ। সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে খিঁচুনি, পক্ষাঘাত বা এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
- অন্ধত্ব: ভিটামিন-এ এর অভাব এবং কর্নিয়া আলসার থেকে শিশু স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলতে পারে।
- কানের ইনফেকশন: মধ্যকর্ণের সংক্রমণে শিশু আজীবনের জন্য বধির হয়ে যেতে পারে।
- ডায়রিয়া ও অপুষ্টি: দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া শিশুকে কঙ্কালসার করে দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায় হাম ও বিশেষ সতর্কতা
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সময়। এই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা পরিবর্তিত থাকে, যার ফলে হাম এর মতো সংক্রামক রোগ গর্ভবতী মা এবং অনাগত সন্তান উভয়ের জন্যই মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নিচে গর্ভাবস্থায় হামের প্রভাব, ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো আলোচনা করা হলো।
গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল হয়ে যায় যাতে শরীর ভ্রূণকে গ্রহণ করতে পারে। এই সুযোগে হামের ভাইরাস অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
- তীব্র নিউমোনিয়া: গর্ভবতী মায়েরা হামে আক্রান্ত হলে তাদের ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এটি শ্বাসকষ্ট তৈরি করে যা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।
আরো পড়ুন: মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ৮টি কার্যকরী উপায়
- লিভারের সমস্যা: অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসটি লিভারের প্রদাহ বা হেপাটাইটিস তৈরি করতে পারে।
- প্লেটলেট কমে যাওয়া: রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে গিয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অনাগত সন্তানের ওপর প্রভাব ও ঝুঁকি: হামের ভাইরাস সরাসরি গর্ভস্থ সন্তানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রধান ঝুঁকিগুলো হলো:
- গর্ভপাত: গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে হাম হলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।অকাল প্রসব: শিশুটি সময়ের অনেক আগেই ভূমিষ্ঠ হতে পারে, যা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
- জন্মগত কম ওজন: আক্রান্ত মায়ের গর্ভে থাকা শিশুটি পুষ্টির অভাবে অত্যন্ত কম ওজন নিয়ে জন্মাতে পারে।
- মৃত শিশু জন্মদান: চরম পর্যায়ে শিশুটি গর্ভেই মৃত্যুবরণ করতে পারে।
গর্ভাবস্থায় হামের প্রতিষেধক বা MMR (Measles, Mumps, Rubella) টিকা দেওয়া সম্পর্কে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে:
- গর্ভাবস্থায় টিকা নিষেধ: MMR একটি লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড টিকা, অর্থাৎ এতে জীবন্ত কিন্তু দুর্বল ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। তাই গর্ভাবস্থায় এই টিকা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এটি অনাগত শিশুর ক্ষতি করতে পারে।
- পূর্ব প্রস্তুতি: যারা মা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত গর্ভধারণের অন্তত ১ থেকে ৩ মাস আগেই নিশ্চিত হওয়া যে তারা ছোটবেলায় এই টিকা নিয়েছেন কি না। যদি না নিয়ে থাকেন, তবে গর্ভধারণের আগেই টিকা শেষ করতে হবে।
যদি কোনো গর্ভবতী মা জানতেন না যে তার টিকা নেওয়া নেই এবং তিনি কোনো হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে চলে আসেন, তবে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে:
- দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ: সংক্রমণের সন্দেহ হওয়ার সাথে সাথে (সাধারণত সংস্পর্শে আসার ৭২ ঘণ্টা থেকে ৬ দিনের মধ্যে) চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
- ইমিউনোগ্লোবিউলিন: চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে সরাসরি অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দিতে পারেন। এটি শরীরে সরাসরি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা দেয় এবং রোগের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।
- আইসোলেশন: নিজেকে সুস্থ রাখতে অন্য সব অসুস্থ ব্যক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
আক্রান্ত মায়ের বিশেষ যত্ন: যদি দুর্ভাগ্যবশত কোনো গর্ভবতী মা হামে আক্রান্ত হয়েই যান, তবে তার জন্য বিশেষ যত্নের প্রয়োজন:
- প্রচুর পানি ও তরল খাবার: জ্বর ও ভাইরাসের কারণে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধ করতে প্রচুর পানি, স্যুপ এবং ডাবের পানি পান করতে হবে।
- বিশ্রাম: শরীরের ধকল সামলাতে পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে।
- জ্বর নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ (এমনকি সাধারণ প্যারাসিটামলও নয়) খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক যা নির্ধারণ করে দেবেন কেবল তাই সেবন করতে হবে।
সামাজিক সচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগ
হাম নির্মূল করা একক কোনো ব্যক্তির কাজ নয়, এটি একটি সামাজিক যুদ্ধ।
গুজব প্রতিরোধ: টিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য বা গুজব বিশ্বাস করা যাবে না।
টিকাদান ক্যাম্পেইন: সরকারিভাবে যখনই কোনো বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন (যেমন এমআর ক্যাম্পেইন) চালানো হয়, তখন আপনার শিশুকে অবশ্যই কেন্দ্রে নিয়ে যান।
সামাজিক দায়িত্ব: কোনো স্কুলে বা এলাকায় হাম দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে এবং আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
পরিশেষে
হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। আধুনিক বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ উপহার 'টিকা' আমাদের হাতে থাকা সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সামান্য অবহেলা বা সামান্য কিছু তথ্যের অভাব একটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক পুষ্টি এবং সময়মতো সঠিক ডোজের টিকা গ্রহণ—এই তিনের সমন্বয়ই পারে একটি হামমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপহার দিতে।
সুস্থ জীবন যাপনের মূলমন্ত্র হলো— "প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম"। আজই আপনার শিশুর টিকাদান কার্ডটি পুনরায় পরীক্ষা করুন এবং কোনো ডোজ বাকি থাকলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। আপনার একটু সচেতনতা একটি নিষ্পাপ প্রাণ রক্ষা করতে পারে।260328





অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url